ডায়বেটিস রোগীদের করণীয়

 

ডায়বেটিস রোগীদের করণীয়

ডায়বেটিস রোগীদের ভালো থাকার ১৫ টি উপায়:

 

প্রথমত আমাদের জানতে হবে ডায়বেটিস কী? ডায়বেটিস হলো একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা যা মানব শরীরে রক্তের মধ্যে গ্লুকোজের অধিক্য থাকেকারণ মানব শরীর এটিকে ব্যাবহার করতে পারে না

 

তাহলে আমরা কিভাবে বুঝবো আমরা ডায়বেটিস দ্বারা আক্রান্ত?তা বোঝার জন্যে আমাদের মাঝে এর কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাবে আর তাহলো- তেষ্টার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, ঘন ঘন প্রসাব  রাতের বেলায় টয়লেট হওয়া, নিয়মিত খাবার খাওয়া সত্তেও ওজন কমা, পায়ে ক্ষত সহ নানা অঙ্গে চুলকানো্ 

 

এক গভেষণায় জানা গেছে ১৯৮০ সালে ডায়বেটিস আক্রান্তদের সংখ্যা ছিল ১০কোটি৮০লাখ যা এখন দাড়িয়েছে ৪২কোটি ২০লাখ এবং বাংলাদেশে ৭১লাখযা দিন দিন বেড়ে চলেছে যার কারণে বিঙ্গানিরা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে অষ্টম ঘাতক ব্যাধি বলেছেন গবেষণায় জানা গেছে ডায়বেটিস আজীবণের রোগ আর সে জন্যে ডায়বেটিস রোগীদের এটিকে নিয়ে আজীবণ বয়ে বেড়াতে হব সে জন্যে ডায়বেটিস রোগীদের ভালো থাকার জন্যে কিছু নিয়ম রয়েছে :-

 

. আমাদের দেশে দেখা যায় বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়বেটিস হওয়া এবং মৃত্যুর হার বাড়তে থাকে কারণ বয়স্ক ব্যক্তিরা কায়িক শ্রম খেলাধুলা  ব্যায়াম করা থেকে দূরে সরে আসেডায়বেটিস থেকে ভালো থাকতে কমপক্ষে ৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে হবে এতে রোগীদের বিপাকীয় হার বেড়ে যাবেডায়বেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করতে হবে

 

.সকালের নাস্তায় প্রচুর পরিমাণে ফরমালিনমুক্ত শাকসবজি  শস্য জাতীয় খাবার যেমন: ব্রাউন রাইস ভুট্টা বার্লি ওটমিল ইত্যাদি শস্য জাতীয় খাবার খেলে আঁশ  রক্তে সুগারের মাত্রা কমতে সাহায্য করবে তাই অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের সকালের খাবারে এসব থাকতে হবে

 

.ডায়াবেটিস এর আরো একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ  মাথাব্যথা থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগ হতে পারে এই অতিরিক্ত মানসিক চাপে  তাই আপনি যদি ডায়াবেটিস থেকে স্বস্তি পেতে চান তাহলে অবশ্যই মানসিক চাপ কমাতে হবেমানসিক চাপে ভুগলে কর্টিসোল হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে থাকে না যার কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের ঝুঁকি বেড়ে যায়  তাই অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে 

 

.ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই ধূমপান ত্যাগ করা উচিত কেননা ধূমপান শুধু  হৃদরোগের   মতো মারাত্মক রোগের কারণ নয়  এটি ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রেও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেসুতরাং ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ভালো থাকতে হলে অবশ্যই ধূমপান ত্যাগ করতে হবে 

 

.আমরা সুস্বাদু খাবার বলতেই বুঝি ফাস্টফুড এর খাবার আর এসব খাবার দেখে কেউ লোভ সামলাতে পারেনা  কিন্তু উচ্চ ক্লেস্টেরল,হজমের সমস্যা, হৃদরোগের মত নানা রোগ হতে পারে পিজ্জা,বার্গার, ফ্রাইস এগুলোর মত ফাস্টফুড থেকেইএছাড়াও সুগারের  মাত্রা বেড়ে যায় যার কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয় তাই অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা উচিত 

 

.এক গবেষণায় দেখা গেছে ডায়াবেটিস রোগীরা দিনে অন্তত 2 কাপ কফি পান করলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি 29 শতাংশ কমে আসে তবে অবশ্যই চিনি ছাড়া কফি পান করতে হবে  কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক উপাদান ডায়াবেটিস এর নিরাময় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে তাই অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের ভালো থাকার জন্য কফি পান করা উচিত 

 

.ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই নিয়মিত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত  কিন্তু  ঘণ্টা থেকে কম এবং 9 ঘণ্টা থেকে বেশি ঘুমালে ডায়াবেটিস এর পক্ষে ক্ষতিকর  তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পরিমাণমতো ঘুমানো উচিত 

 

.ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যেহেতু গ্লুকোজের মাত্রা কমানো উচিত তাই অবশ্যই তাদের মিষ্টিজাতীয় যে সকল খাদ্য রয়েছে তা পরিত্যাগ করতে হবেযেমন চিনি ,গুড়, মিষ্টি, মধু যুক্ত খাবার

 

.ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার জন্য আরো একটি ধাপ হলো অতিরিক্ত চর্বি  তেল জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করা  গবেষণায় জানা গেছে একজন ডায়াবেটিস  রোগীকে তার মোট ক্যালোরির মধ্যে কমপক্ষে 60 থেকে 70 শতাংশ শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত  আর বাকি 20 থেকে 25 শতাংশ হবে প্রোটিন আর ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাবার হবে 10 থেকে 15 শতাংশ  তাই দেখা যাচ্ছে ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া  তেল চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে 

 

১০.যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীদের চর্বি  ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয় তবে  অলিভ অয়েল এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যা আমাদের শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী তাই ডায়াবেটিস রোগীদের অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি ভাজাপোড়া  খাবার খাওয়া উচিতঅলিভ ওয়েল এর পাশাপাশি আমন্ট এর তেল খেতে পারে

 

১১.আপেল  কমলা লেবু ডায়াবেটিস রোগীদের খুবই উপকারী ফল  কারণ কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ফটোনিউক্রিয়েট থাকে যা ডায়াবেটিস নিরাময় মুখ্য ভূমিকা পালন করে  আর আপেল শর্করা কমাতে সহায়তা করে  তাই প্রত্যেক দিন ডায়াবেটিস রোগীদের একটি করে সবুজ আপেল খাওয়া জরুরী 

 

১২.বলা হয়ে থাকে ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সবজি হল গাজর  করোলা  কারণ গাজরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে  যা কোলেস্টেরল এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে যাতে করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে  এছাড়াও গাজর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, ক্যান্সার প্রতিরোধ, হার্ট সবল রাখা,ত্বকের শুষ্কতা দূর করণ সহ নানা ভাবে উপকার করে  অন্যদিকে করলা তেঁতো স্বাদযুক্ত হলেও এটি আমাদের জন্যে খুবই উপকার করে  বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি উত্তম সবজি  কারণ করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়  অতএব,বলা যায় ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই গাজর  করোলা সবজি হিসেবে খাওয়া খুবই জরুরী 

 

১৩.ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার আরো একটি কার্যকারী পদ্ধতি হলো ডায়েট প্ল্যান  ডায়াবেটিস কে দমন করতে হলে অবশ্যই খাদ্যভ্যাস এর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে  যেমন: সকালে উঠে ফল খাওয়া, চিনি ছাড়া নাস্তায় টক দই খাওয়া যা হজম শক্তি বৃদ্ধি এবং ক্যালসিয়াম অভাব পূরণ করে  এছাড়া রান্না করা আমন্ট,ওটসমিল, বাদাম এগুলো কম ফ্যাটযুক্ত দুধের সাথে খেলে খুব উপকার হয়  এছাড়া দুপুরের খাবারে বেশি পরিমাণে সালাদ জাতীয় খাবার যেমন লেটুস পাতা, টমেটো,গাজর, শসা ইত্যাদি মিশিয়ে প্রতিদিনের খাবারে রাখা  যেহেতু শর্করা জাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত তাই অল্প ভাত এর সাথে এক টুকরো মাছ অথবা মাংস খেতে পারবেন  আর বিকাল বেলায় চা, হালুয়া, বিশেষ করে গ্রিন টি এবং চিনি ছাড়া শরবত খেতে পারবেন  রাতের খাবারে ভাতের পরিবর্তে গম অথবা আটার তৈরি দুই থেকে তিনটি রুটি খেতে পারেরুটির সাথে হালকা সবজি থাকলে ভালো হয়  সর্বোপরি ঘুমাতে যাওয়ার সময় কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে খুবই উত্তম

 

১৪.ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছে যে, এই ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেওয়ার পর শুধুমাত্র ছয় মাসের মধ্যে ওজন কমিয়ে এটি নিরাময় সম্ভব  এতে কোনো ওষুধের প্রয়োজন হবে না এবং তিন মাস ধরে 900 ক্যালরির পরিমাণ নিউট্রিশন খেতে হবে  এতে সারা জীবন ধরে ট্যাবলেট  ইনসুলিন গ্রহণ না করে  রোগ নিরাময় সম্ভব হবে যারা সাত কিলো গ্রাম পর্যন্ত ওজন কমিয়েছে তাদের মধ্যে 7% মানুষই এসব ট্যাবলেট ছাড়া সুস্থ হয়েছেন  আর যারা 15 কিলো ওজন কমাতে পেরেছে তাদের মধ্যে 86% সুস্থ হয়েছে  তাই ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই প্রথম পর্যায়েই ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে

 

১৫.ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে  ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন কারনেই ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা বন্ধ রাখা যাবে না

No comments

Powered by Blogger.